blogger widgets
শুভ্র ভাই এর লেখালেখির জগতে স্বাগতম! Welcome!

মানুষকে চমকে দিতে পছন্দ করেন তানিম।

অনু আড্ডা-৭ এর সাথে আছে তানিম আহমেদ।
অনুঃ তানিম কখন তুমি প্রথম সমকামিতার স্বাদ পেলে?
তানিমঃ ঠিক কোন বয়সে সমকামিতার স্বাদ পেয়েছি সেটা বলা মুশকিল। যখন থেকে আমার সেক্সের অনুভূতি আসলো তখন থেকেই আমি বুঝতে পারলাম আমার আকর্ষন ছেলেদের প্রতি।

অনুঃ আমার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটি ঘটেছিলো। প্রথম যখন এই ফিলিংসের কথা বুঝতে পারলে তখন কেমন মনে হত?
তানিমঃ প্রথম প্রথম যখন মনের কথা শেয়ার করার সুযোগ ছিলো না তখন ভাবতাম আমি বুঝি পৃথিবীতে একা যে ছেলে হয়েও ছেলেদের প্রতি আকর্ষণবোধ করি।

অনুঃ প্রথম সমকামিতা সম্পর্কে কোন জায়গা থেকে জানলে?
তানিমঃ দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার কল্যাণে সমকামিতা সম্পর্কে বুঝতে শিখি,

অনুঃ সেক্সের অভিজ্ঞতা আছে?
তানিমঃ হুম আছে।

অনুঃ প্রথম কত বছর বয়সে সহবাস করো?
তানিমঃ প্রথমবার যখন সহবাস করি তখন আমার বয়স ২২/২৩ হবে।

অনুঃ কৈশোরে হস্তমৈথুন একটা ফ্যান্টাসির মত ছিলো। তুমি হস্তমৈথুন করতে?
তানিমঃ ছোটে বেলা অনেক্ক হস্তমৈথুন করতাম। এটা একটা নেশার মত হয়ে গিয়েছিলো।

অনুঃ এখনো করো?
তানিমঃ এখন আর তেমন করা হয় না।

অনুঃ প্রথম যৌনমিলন সম্পর্কে কিছু বলো। স্বেচ্ছায় নাকি কারো প্ররোচনায় প্রথম সেক্স করেছো?
তানিমঃ প্রথমবার যৌন সম্পর্ক আমার নিজের ইচ্ছাতেই হয়েছিলো। কিন্তু যৌন মিলন বা ফ্লুইড এক্সচেঞ্জ বলতে যেটা বোঝায় সেটা হয় নাই কারো সাথে।

অনুঃ তা সেই যৌন সম্পর্কের অভিজ্ঞতা কেমন?
তানিমঃ অনেক এক্সাইটিং। জীবনে এত কাছে কাউকে পাবো কখনো ভাবিনি, তাকে প্রায় ২/২.৫ ঘন্টা জড়িয়ে ধরে শুয়ে ছিলাম।

অনুঃ তারপর?
তানিমঃ তারপর আর আমাদের কখনো দেখা হয় নাই।

অনুঃ কেন?
তানিমঃ আমার উপর সে খুব বিরক্ত। দুই ঘন্টা সময় পাস করেও ওরে আমি কিছুই করতে দেই নাই।

অনুঃ খুবই রুড ব্যাপার। আমি এটাকে সমর্থন করি না। তাওয়া গরম করতে দিলে অবশ্যই রুটি শেঁখতে দেয়া উচিত। তো সেক্সর ক্ষেত্রে তোমার পছন্দ কি?
তানিমঃ আমার পছন্দ হাগ, কিস, জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকা আর ইন্টিমেট হয়ে গল্প করা। এক কথায় যাকে বলে রোমান্স।

অনুঃ আচ্ছা ফ্যামিলী কি জানে যে তুমি সমকামী?
তানিমঃ আমার বাবা নেই।

অনুঃ স্যরি।
তানিমঃ মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় এই বিষয়গুলো ফ্যামিলির সবাইকে বলে চমকে দেই। আমি মানুষকে চমকে দিতে পছন্দ করি। কিন্তু যদি সত্যি কখনো জেনে যায় তখন কিভাবে ট্যাকল দেবো সেই বিষয়ে এখনো ভেবে দেখিনি। এটা সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়েছি।

অনুঃ সমকামী জোবনে কোন ভালো বন্ধু আছে তোমার?
তানিমঃ না নেই। সেই অর্থে ভালো কোন বন্ধু এখনো পাইনি।

অনুঃ ভবিষ্যত নিয়ে কি ভাবছো? জীবনে স্পেশাল কাউকে পেতে চাও?
তানিমঃ এটা নিয়ে যত ভাবি ততই কনফিউজড হয়ে যাই। সো এটা নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দিয়েছি। বাট আই স্টিল হ্যাভ হোপ। ওয়ান ডে সামওয়ান উইল কাম ইনটু মাই লাইফ। কিন্তু এখন আগে ক্যারিয়ারটা সেটল করে নেই। তারপর নাহয় এই বিষয়ে ডিসিশান নেয়া যাবে।

বন্ধুকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চান নীল।

অনু আড্ডা-৬ এ সুস্বাগতম। আজকে আমাদের মুখোমুখি হয়েছে নীল লাল।

অনুঃ আচ্ছা নীল, কবে আপনি প্রথম বুঝতে পারলেন আপনি সমকামী?
নীলঃ প্রথম বলতে, নির্দিষ্ট ভাবে বলতে পারবো না। ১৬/১৭ বছর বয়স থেকে হবে।

অনুঃ কিভাবে বুঝলেন আপনি সমকামী?
নীলঃ ছোট বেলা থেকে আমি ছেলেদের পুরুষাঙ্গ ধরতে পছন্দ করি।

অনুঃ হা হা হা। ছোট বেলা থেকে! হস্তমৈথুন করো?
নীলঃ হ্যাঁ আমি করি। তবে নির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো না কয়বার করি। যখন সেক্সের আবেগ জাগে তখন করি। সপ্তাহে আট দশবারের বেশী নয়।

অনুঃ গ্রেট! সাতদিনে দশবার! সেক্স করেন?
নীলঃ সেক্স নয় কিস করেছিলাম। আমার ভালই লেগেছিলো।

অনুঃ ভালো লেগেছিলো! তার মানে এখন আর করেন না?
নীলঃ এক রাতেই কিস করেছি।

অনুঃ বাবা মা যদি জেনে যায় তুমি সমকামী তাহলে কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে?
নীলঃ কি আর করবো! আর জেনেই যদি যায় তাহলে আমি আমার ফ্রেন্ডকে নিয়ে পালিয়ে যাবো। আর দেখা দেবো না।

অনুঃ ফ্রেন্ডকে নিয়ে পালিয়ে যাবে। বেশ, অনেকটা পালিয়ে বিয়ে করার মত। তার মানে তুমি তোমার মনের মানুষ পেয়ে গেছ?
নীলঃ পেয়েছি। তবে আমি তার যোগ্য না হলেও সে আমাকে ভালোবাসে।

অনুঃ ভালোবাসা যোগ্যতা দিয়ে নয় দুটি মনের মিল থেকেই হয়। তোমার ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা কি?
নীলঃ আমার জীবনের চেয়ে দামী, আমার ভালোবাসা, বাবু খানের সাথে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে চাই।

অনুঃ আপনার প্রত্যাশা পূর্ণ হোক এটাই আমাদের কামনা। অনু আড্ডাতে আসার জন্য ধন্যবাদ।
নীলঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

মিতুল নিয়ামুল, শুভ্র ডি'কস্তার সাথে বিশ্ব ভ্রমনে যেতে ইচ্ছুক।

অনু আড্ডা-৫। আজকের অতিথি অতি ভদ্র সুমিষ্টভাষী স্বাস্থ্য সচেতন মিতুল নিয়ামুল।

অনুঃ মিতুল কবে তুমি প্রথম সমকামী জীবনে প্রবেশ করলে?
মিতুলঃ অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময়ে। তখন আমার বয়স ছিলো ১৪ বছর।

অনুঃ বাহ। তুমি তো অনেক বুঝদার ছেলে। আমি কিন্তু ক্লাস টেনে পড়ার আগে এগুলা বুঝতাম না। তা কিভাবে প্রবেশ করলে?
মিতুলঃ ক্লাস এইটে পড়ার সময়ে আমি আমার এক ক্লাসমেট ছেলে প্রথম প্রেম পত্র লিখি।

অনুঃ ওয়াও। খুব পাকনা ছিলে দেখছি। হাত চালাচ্ছো সেই কৈশোর থেকে। এখনো হাতের চল আছে নাকি?
মিতুলঃ নাহ। ওসবের প্রয়োজন হয় না। বিয়ে করেছি তো।

অনুঃ গ্রেট। গে সেক্স কখনো করেছ?
মিতুলঃ হুম। ক্লাস নাইনে পড়ার সময়ে। ১৫ বছর বয়সে।

অনুঃ যদিও খুব জানতে ইচ্ছে করছে কার সাথে করেছো। কিন্তু জিজ্ঞেস করছি না। লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। এটুকু বলো, যেহেতু লাভ লেটার লিখতে, তো যার সাথে মিলিত হয়েছিলে তাকে কি ভালোবাসতে?
মিতুলঃ হুম। আমরা দুজন দুজনকে লাভ করতাম।

অনুঃ তুমি কি তোমার সমাজকে জানিয়ে দিতে চাও যে তুমি একজন পুরুষপ্রেমী?
মিতুলঃ না চাইনা।

অনুঃ যদি কখনো তোমার বাবা-মা তোমার গোপন যৌনজীবন সম্পর্কে জেনে যায় তখন?
মিতুলঃ আমার জানার অপশান নাই।

অনুঃ সমকামী জীবনে তোমার প্রত্যাশা কি?
মিতুলঃ একজন ভালো বন্ধু যাকে নিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্যুরে যেতে পারি।

অনুঃ জানতে পারি কি সেই সৌভাগ্যবান বন্ধুটি কে?
মিতুলঃ শুভ্র ডি’কস্তা!

অনুঃ খাইছে আমারে! তোমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হোক। দোয়া করে দিলাম। যাও শীঘ্রই গিয়ে এয়ারবাসের টিকেট কিনে আনো। বিজনেস ক্লাসের টিকিট কাটবে। বিজনেস ক্লাসের টয়লেট গুলো সুপার। হা হা হা।
মিতুলঃ হা হা হা।

অনুঃ হা হা হা। মজা পাইলাম। যাই হোক মিতুল নিয়ামুল কে ধন্যবাদ। আগামীকাল আবার আসছি অনু আড্ডা ৬ নিয়ে উইথ নীল লাল। সঙ্গে থাকুন, মন্তব্য করুন। আর অনু আড্ডায় তুমিও আসতে চাইলে ব্রাকেটের ভিতরে লেখো আমিও আসতে চাই।


এক্সেল আনাফ, রনবীর কাপুর যার স্বপ্নের পুরুষ

অনু আড্ডা-৪ এ স্বাগত জানাচ্ছি। আজ আড্ডায় আমার সাথে আছে এক্সেল আনাফ।

অনুঃ আনাফ তোমাকে একই প্রশ্ন দিয়ে শুরু করছি। কত বছর বয়সে তুমি প্রথম বুঝতে পারলে তুমি পুরুষ মানুষের প্রতি সেক্সুয়াল কামনা ফিল করো?
আনাফঃ ১৫ বছর বয়সে।

অনুঃ তাই। তা প্রথম যৌনমিলনের অভিজ্ঞতা হলো কবে?
আনাফঃ ঐ একই সময়ে। ১৫ বছর বয়সে।

অনুঃ কিভাবে তুমি উপলব্ধি করলে যে তুমি সমকামী?
আনাফঃ গুড লুকিং এবং ইয়ং ছেলে দেখলে কাছে পেতে ইচ্ছে করতো। তাই বুঝতাম আমি সমকামী।

অনুঃ হস্তমৈথুন করো?
আনাফঃ হুম করি। সপ্তাহে ৩/৪ বার করা হয়।

অনুঃ ওয়াও। তাহলে তো সারা সপ্তাহ হট থাকো। হস্তমৈথুন করতে কেমন লাগে?
আনাফঃ উমম! ফিলিং বেটার।

অনুঃ তুমি কি সবাইকে জানিয়ে দিতে চাও যে তুমি সমকামী?
আনাফঃ পসিবল না।

অনুঃ বাবা-মায়ের কাছে যদি কখনো ধরা পড়ে যাও তুমি সমকামী সেক্ষেত্রে কি করবে তুমি?
আনাফঃ অনেক লজ্জা পাবো। কিন্তু কি আর করা। বুঝতে হবে আমাকে।

অনুঃ কেমন বয়ফ্রেন্ড চাও তুমি?
আনাফঃ একটা গুড মাইন্ড এবং কিউট, এডুকেটেড পারসন যাকে নিয়ে আমি লাইফটা কাটাতে পারবো।

অনুঃ চলচিত্রে এমন কোন নায়ক আছে যাকে তুমি ফিল করো?
আনাফঃ বলিঊডের রনবীর কাপুর, ওকে দেখলে আমি হট হয়ে যাই। ওকে খুব কিস করতে মনে চায়।

অস্টিন ডি'মেল্লো বাবা-মা সমকামিতা জানা সম্পর্কে, 'জেনে গেলে বেঁচে যাই'

অনু আড্ডা-৩ এ সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ। আজকের আড্ডায় আমাদের সবার অতিপ্রিয় মুখ অস্টিন তার একান্ত গোপন কিছু কথা জানিয়েছে।

অনুঃ অস্টিন কত বছর বয়সে তোর মনে হলো তুই পুরুষে আসক্ত?
অস্টিনঃ দশ বছর বয়সে।

অনুঃ এত অল্প বয়সে! কিভাবে বুঝলি?
অস্টিনঃ কিভাবে বুঝেছি তা এখন মনে নেই।

অনুঃ বেশ। সেক্স করেছিস?
অস্টিনঃ না করিনি। এখনো ভার্জিন আছি।

অনুঃ বন্ধুদেরকে তোর সমকামী পরিচয়ের কথা জানাতে চাস?
অস্টিনঃ চাই কিন্তু পারি না।

অনুঃ বাবা-মা যদি জেনে যায় তুই সমকামী তখন কি করবি?
অস্টিনঃ জেনে গেলে বেঁচে যাই।

অনুঃ হা হা হা। আচ্ছা সমকামী জীবনে তোর প্রত্যাশা কি?
অস্টিনঃ টপ বটম ইকুয়্যালিটি।

অনুঃ সেটা কেবল ভার্সেটাইল রোলেই সম্ভব। যাই হোক তোর কাছে শেষ প্রশ্ন। তোর মনের মানুষ কে?
অস্টিনঃ আছে একজন। কিন্তু তার নাম প্রকাশ করতে চাই না।

অনুঃ বন্ধুরা কেমন লাগলো আমার ছোট্ট ভাই অস্টিনের উত্তর। তুমিও অনু আড্ডায় অংশ নিতে চাইলে মন্তব্যে জানাও।

অনু-আড্ডাঃ ০১ নাঁটাবনের কাঁটা

আজকের অতিথি নাটাবনের কাটা। আসুন তার গোপন কিছু কথা জেনে নেই।

১. কবে তুমি নিজেকে সমকামী হিসেবে উপলব্ধি করলে ?

১৪ বছর বয়সে।আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি।

২. উপলব্ধিটা কিভাবে হলো ?

আমি ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সাথে থাকতেই ভালবাসি।একটা ফ্রেন্ড আমাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলল যে পৃথিবীতে সমকাম বলে কিছু একটা আছে।তারপর থেকে বুঝলাম আমার মধ্যেও বিষয়টা আছে।

৩. হস্তমৈথুনের ব্যাপারে তুমি কত টুকু উৎসাহী?

হস্তমৈথুন করি তবে গুণেকেটে করিনা।তবে বেশি না দু তিনবার এক সপ্তাহে।

৪. প্রথম সহবাস করো কবে ?

আমার ১৬বছর বয়সে প্রথম এবং একমাত্র সহবাস হয়।তার আগে একবার হবে হবে করেও হয়নি।

৫. তুমি সহবাসে আগ্রহী ছিলে নাকি জোর করে কেউ ?

আমার ইচ্ছায়ই হয়েছিল।

৬. প্রথম মিলনের অভিজ্ঞতা কেমন হয়েছিলো?

আমার প্রথম অভিজ্ঞতায় যেহেতু হবে হবে করেও হয়নি দ্বিতীয়বারও ভেবেছিলাম অমনই হবে।কিন্তু কেমন করে যেন সেই মুহুর্তগুলো এত মধুময় হয়ে উঠল যে ভাবতেও অবাক লাগে।তবে একটা দুখকর ব্যাপার সেদিন ওর বাসায় ওয়াশ করার পানি ছিলনা।তাই সারাদিন অপবিত্র অবস্থায় ঘুরতে হয়েছে।

৭. সমকামী পরিচয়ের কথা কি পৃথিবীকে জানাতে চাও ?

না চাইনা।কারন সমাজ কখনো মেনে নেবে না।তার থেকে বরং আমার প্রাণের ভালবাসা প্রাণেই থাক।

৮. বাবা মা যদি জেনে যায় যে তুমি সমকামী তখন কি করবে ?

আমার বাবা মা যদি জানে যে আমি সমকামি তাহলে আমার বাবা মায়ের সাথে সাথে আমিও কলসি দড়ি গলায় বেঁধে পুষ্কুনিতে ঝাপ দিব।আসল কথা হলো এখনো ঐভাবে ভাবিনাই কি করব।

৯. সমকাম জীবনে তোমার প্রত্যাশা কি ?

সমকাম জীবনে আমার চাওয়া হলো আমি যাকে চাই তাকে যেন সারাজীবন কাছে পাই।আর পাওয়া হলো এখানে আমি অনেক ভালো ভালো ফ্রেন্ড পেয়েছি তুষার ভাইয়া,অস্টিন,অঞ্জনের মত।

১০. তোমার স্বপ্নের পুরুষ কে যাকে তুমি অনেক পছন্দ করো ?

স্বপ্নের পুরুষ একলা পথিক।

(নাটাবনের কাটার কথোপকথন জানার পর কেউ অনু আড্ডায় সাক্ষাৎকার দিতে চাইলে যোগাযোগ করো।)

লাইফ উইদাউট লাভ - পর্বঃ ২৫

দরজায় করাঘাতের শব্দ সেই সাথে মেয়েলি কন্ঠ ভেসে এলো, ছোড ভাই , বেহান বেলা আর কত ঘুমাবে। ওঢো।

আমি ঠিক ঠাহর করতে পারলাম না, কে আমাকে ডাকছে। মা ফুফুর গলা তো এরকম না। শেষ রাতের দিকে বোধহয় ঘুমিয়ে গেছিলাম। দুচোখ ঘুমে বুজে আসছে। ঘুম জড়ানো স্বরেই জিজ্ঞেস করলাম , কে ?

ওপাশ থেকে খিলখিলিয়ে হাসির শব্দ ভেসে এলো।  "বেশ মানুষ তো তুমি! গত রাতে সাথে করে আনলে আর এখন চিনতেই পারছো না।  "



আমি এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারি নাই। বহুকালের অভ্যেষবশত রহীমের খাটের দিকে তাকালাম। রহিমের খাট কোথায়? খাটের বদলে সেখানে একটা টেবিল। টেবিলের উপর একরাশ বই পত্র ঝাঁপ মেরে রাখা। এবার সব ঝাপসা পরিষ্কার হয়ে এলো। শালিক খালী, সুন্দরবন সব স্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছিলো গত রাতে। বহু বহুকাল পরে।

আমি ধরমড় করে উঠে বসলাম। চোখ কচলাতে কচলাতে দরজা খুলে দিলাম। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে কনা ভাবি। হাতে চায়ের কাপ। হাসি মুখে বললেন, টিকটিকির ছোট ভাইটিও দেখি ঘুমে কম যায় না। চা তো ঠান্ডা হয়ে গেলো। দেখতো খাওয়া যায় কিনা?

আমি হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপ নিয়ে চুমুক দিলাম। বহুদিন পর ঘুম থেকে উঠে এভাবে বেড টি খাওয়া হয় না। একাকি জীবনে সব নিজেকেই করতে হয়। ঘুম থেকে উঠে চা বানাতে বানাতে আর বেড টি খাওয়ার মুড থাকে না।
চা ভালো হয়েছে। ফার্স্ট ক্লাস চা।

‘ চিনি ঠিক আছে।  তিন চামচ চিনি।
‘ জি।  তিন চামচ চিনি খাই এটা কিভাবে জানলেন ?
‘ গতকালকেই লক্ষ্য করেছি । চিনি বেশী খাও। এত মিষ্টি খাওয়া ভালো না রক্তে সুগার বেড়ে যাবে।

আমি হাসি দিলাম। একাকি এই জীবন শুধু অর্থহীন ভাবে টেনে নেয়া। তাতে চিনি বাড়লেই বা কি আর কমলেই কি ! মজা করে বললাম, বেশী চিনি খাই যাতে ব্যবহার মিষ্টি হয়। এমনিতেই বন্ধুরা সবাই বলে আমি রগচটা। হঠাৎ করে রেগে যাই।

ঘরে ছড়ানো ছিটানো বইয়ের দিকে তাকিয়ে কনা ভাবি বললেন, ঘরের এই হাল কেন ? সাপ খোপ বাসা বাঁধে নাই তো ওই বইয়ের দঙ্গলে ? জলদি বিয়ে করো। বউমা এসে সব জঞ্জাল দুর করে দিক।

আবার বিয়ের কথা। এই বিষয়ে উত্তর দিতে দিতে আমি ক্লান্ত। কিন্তু আজ আর উত্তর দেয়া লাগলো না। অক্ষর তার ছোট পা ফেলে দৌঁড়ে এলো।

‘ চাচ্চু কোলে নাও। কোলে উঠবো।
কোলে নিয়ে তার তুলতুলে গালে টুক করে একটা চুমু খেয়ে বললাম, কি ব্যাপার্। এতো সকালে আমার ছোট আব্বু এত ফিটফাট কেন?
‘ চাচ্চু, ইউ ফরগট? আজ মর্নিং এ না আমরা ওল্ড বাংলার ক্যাপিটাল দেখতে যাবো।
‘ স্যরি আংকেল। একদম মনে ছিলো না। আমি পাঁচ মিনিটেই গুছিয়ে নিচ্ছি

ভাবীর দিকে তাকিয়ে বললাম, আচ্ছা ভাবী এত জায়গা থাকতে সোঁনারগাঁয়ে কেন। সেখানে তো দেখার মত কিছু নেই।

‘ আসলে তোমার ভাইয়া সবসময় অক্ষরের কাছে দেশের গল্প করে। প্রাচীন বাংলার গল্প এত করেছে যে ছেলের ধারণা সোনারগাঁ অনেক সুন্দর একটা জায়গা। তাকে দেশে আশার আগে জিজ্ঞেস করেছিলাম , দেশে গিয়ে প্রথম কোন জায়গা দেখতে চাও। সে বললো পানাম সিটি। তাই আমরাও ট্যুর প্লানে পানাম সিটি রেখেছি সবার আগে।

‘ ওকে ভাবি আমি রেডি হয়ে নেই। দ্বীপ্ত ভাইয়া উঠেছে ?
‘ সেও তো তোমার পাঁচ মিনিটের দলে। ডেকে এসেছি। এখনো ওঠেনি বলে মনে হয়। আমরা মেয়েরা নাকি কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে ঘন্টা খানেক লেট করি। তাই সেই অপবাদের আগেই উঠে পড়লাম।  ফ্রেশ হয়ে  এসো। নাস্তা করবে ।

‘ নাস্তাও বানিয়েছো।
‘ এসেই দেখো।
‘ কষ্ট করে নাস্তা বানানোর কি দরকার ছিলো।

ভাবি কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বললেন, নিজে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছেন! আর আমাদের বলেন, কষ্ট করে নাস্তা বানানোর কি দরকার ছিলো। তোমার কাজের লোকের রান্নার মুরোদ আমার জানা আছে। যাও কথা না বাড়িয়ে জলদি ফ্রেশ হয়ে আসো।






লাইফ উইদাউট লাভ - পর্বঃ ২৪

নাই টেলিফোন, নাইরে পিয়ন, নাইরে টেলিগ্রাম ,
বন্ধুর কাছে মনের খবর কেমনে পৌঁছাইতাম।

বাংলাদেশ বেতারে রুনা লায়লার গলার গান আজ আমার দুপুরের হাহাকার বাড়িয়ে দিলো। আজ এক মাস হয়ে গেলো। দ্বীপ্ত ভাইয়ের কথা আমি সারাক্ষন ভাবি। সেকি একবারও আমার কথা ভাবে না। এক লাইনে একটা চিঠি লিখে পাঠানোর সময় কি তার হয় না !

শেষ বিকেলে এলো চিঠি। বাবার পকেটে চড়ে। এক খামে দুটো চিঠি। একটা আব্বার, আরেকটা আমার্। দ্বীপ্ত ভাইয়া পাঠিয়েছে। তারআনে আব্বা দুটো চিঠিই পড়েছেন। আমি কাঁপাকাঁপা হাতে চিঠিখানা নিলাম।

নিজের ঘরে গিয়ে জানালার কাছে আলোয় মেলে ধরলাম চিঠির নীলচে পাতাছোট চিঠি। মাত্র কয়েকটা লাইন তাতে লেখা।

প্রিয় শুভ্র,
            শুভাশিষ নিও। আশা করি বাড়ির সবাইকে নিয়ে কুশলে আছো। পরসমাচার তোমাদের বাড়ি থেকে আসার পর পরীক্ষার ডেট পড়ে যাওয়ায় প্রচন্ড ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই তোমাকে চিঠি লেখা হয় নাই। তোমার পড়াশুনা টা কেমন হচ্ছে ? মন দিয়ে পড়াশুনা করবে।

ভালো থাকবে। আমার জন্য দোয়া করবে। আর সময় পেলে চিঠি দিও।

ইতি,
তোমার দ্বীপ্ত ভাইয়া।

পুনশ্চ: আমার ঠিকানা খামের উপর পাবে।

অল্প কয়েকটি লাইন। আমি চিঠিখানা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার পড়তে লাগলাম। প্রতিবার চিঠিখানাকে নতুন বলে মনে হলো। এই কয়টি লাইন আমার সময়কে রঙিন কর দিলো। মনে হচ্ছে দ্বীপ্ত ভাইয়া আমার সাথে মুখোমুখি কথা বলছে। আজ মন আমার অনেক ভালো।  চিঠির অক্ষরগুলো মৌমাছির মত আমার চারপাশে গুনগুন করতে লাগলো। আমি তখনি চিঠির উত্তর দিতেবসে গেলাম। মনের রাজ্যে হাজার কথার ভিড়। কোনটা রেখে কোনটা লিখি ! সম্বোধন কি লিখব সেটা লিখতেই  কয়েক পাতা নষ্ট হলো। প্রিয়তম, হৃদয় আমারজানপাখি  বাদ হয়ে শুধু থাকলো দ্বীপ্ত ভাইয়া।

বাতাসে ভেসে যেতে লাগলো আমাদের সময়। রাগ অভিমান , প্রেম ভালোবাসা সব  চিঠির কাগজে ডানা মেলত। দুত হয়ে হাজির হত পোস্ট অফিসের পিয়ন। সপ্তাহে  আমার নামে একটি দুটি চিঠি আসা রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেডিওতে মনির খানের শোনা গানের দুকলি একদিন লিখে পাঠালো দ্বীপ্ত ভাইয়া। আমার খুব হাসি পেলো। কারো সাথে শেয়ার করতে পারি নাই। তেঁতুল তলায় ওইপাশের বাগানে গিয়ে একা একা হো হো করে হাসলাম।


চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙা ভাঙ্গা হাতে, প্রদীপ জ্বালাইয়া নিভাইয়া ...


লাইফ উইদাউট লাভ - পর্বঃ ২৩


সময় যেন আর কাটে না, বড় একা লাগে ...

দ্বীপ্ত ভাইয়া চলে যাবার পর খুব একা মনে হয়। চারপাশের সেই চিরচেনা মুখ গুলো আগের মতই আছে। তবুও নিজেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত মনে হয়। জন মানুষের মাঝে থেকেও আমি বড় নি:সংগ বোধ করি। শুধু মনে পড়ে সেই মুহুর্তগুলোকে যা আমাকে দিয়েছে  কিছু রোমাঞ্চকর অনুভূতি।  আমি দ্বীপ্ত ভাইয়ার দিয়ে যাওয়া শার্টটা পরি। শার্টটা পরলে মনে হয় দ্বীপ্ত ভাইয়া আমাকে আলিংগন করে আছে। আমি তার স্পর্শ পাই, তার শরীরের গন্ধ খুঁজে ফিরি এই শার্টে। আমি মিয়াভাইয়ের ঘরের তালা খুলি। আমার প্রথম মিলনের সাক্ষী এই পালংক খাট। আমি খাটের উপর শুয়ে থাকি। বালিশে মাথা রাখি। দ্বীপ্ত ভাইয়ার ব্যবহার করা বালিশে চুমু খাই। চোখ ফেটে জল আসে। একা একা কাঁদি।

বিকেলের হেটে বেড়াই শালিক খালী নদীর পাড় ধরে।  সবুজ ঘাসে মুখ ডুবিয়ে এক মনে ঘাস খাচ্ছে নতুন দাদীর ছাগল দুটি। ছগীর শেখ খ্যাওলা জাল ছূড়ে মাছ ধরছে। খারাই হাতে মাছ কুড়াচ্ছে তার বাচ্চা মেয়েটা। দুটি সাদা বক পাশাপাশি উড়ে গেলো বাঁদার দিকে। বাড়ির উঠোনের সব্জি বাগান থেকে ওলকপি তুলছে আর পান চিবুচ্ছে নতুন দাদী। বাঁশের সাঁকোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে মসজিদের ইমাম সাহেবের কথা শুনছে ছাকা মাঝি ও গফুর গাছি।  ইমাম সাহেবের নাম কাইয়ুম মৌলভি। চার গ্রাম পরে লেবুপাতা  গ্রামে তার বাড়ি।  আমি সামনে এগিয়ে যাই। কিছুদুর পরে  সবুরদের বাড়ি। সবুরের দাদি সবুরকে গজা খাওয়াচ্ছে  বারান্দায় বসে।  মোড়লপাড়ার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শুনতে পেলাম, কে যায়?


ঘরের দাওয়ায় বসে  জাল বুনছে মোজাম মিয়া। মোজাম মিয়া জন্মান্ধ। পৃথিবীর রূপ সে কখনো দেখেনি । তবুও সরস একজন মানুষ। আমাদের বিচিত্র সব গল্প শোনায় তার বর্ননা শুনলে চোখের সামনে  সিনেমার মত ভেসে ওঠে সব। আরব দেশের গল্প সে বেশী করে।  চোখে যারা দেখে না তাদের কান অনেক শার্প হয়। আমি হাঁটছিলাম আপনমনে খুব আস্তে  ধীরে। তাও সে শুনতে পেলো।  ডাক দিলো।

আমি উত্তর দিলাম , "আমি  " । দ্বীপ্ত ভাইয়া হলে বলত, আমি দ্বীপ্ত। আমার গলার স্বর শুনে মোজাম কানা আমাকে চিনতে পারলো, ও ছোড খুকা। আসো। এইহানে বসো। দুডো গল্প করি।

আমার তেমন কোন তাড়া নেই। বারান্দায় পাতা খেঁজুর পাটির উপর উঠে বসলাম।   রসের জন্য খেঁজুর গাছ কাটার আগে বাইল্লে কাটা হয়।  খেঁজুরের পাতা দিয়ে  পাটি বোনে চাচী। মোজাম কানা ভালো জাল বুনতে পারে। দিনের বেশিরভাগ সময় সে জাল বোনে আর গুনগুনিয়ে গান গায়। মহুয়া সুন্দরীর পালা, বেহুলা লক্ষীন্দরের পালা, ভানুমতির পালা সব তার মুখস্ত।  গলার সুরও চমৎকার্। জুম্মাবারে সে লাঠি হাতে ঠুকঠুক করে চলে যায় মসজিদে। মুয়াজ্জিনের আজান দেওয়ার আগে সে সুললিত  স্বরে গজল গায় দুই তিন খানা। গ্রামের বউঝিরা কাজের ফাঁকে  তার গজল শোনে। মোজাম কানার বিয়ে হয় গরীব এক চাষীর মেয়ের সাথে। একে তো গরীব চাষা তার উপর একখান ছেলের আশায় তার ছয়ছয়খান মেয়ে হলো পরপর । এত গুলো পেটের অন্ন জোগাতে সে চোখে সর্ষে ফুল দেখে। পারলে তো সে মেয়েগুলোকে গাঙের জলে ভাষায় দেয়। সেই ছয়  মেয়ের একজন মোজাম চাচার বউ। শত দু:খ কষ্ট মুখ বুঝে সহ্য করা আশ্চর্য্য সহনশীল এক রমনী। তাদের একটা ছেলে ছিলো। বেশ সুন্দর দেখতে । সবাই কোলে নিয়ে আদর করত। সবার কথা শুনে মোজাম কানা খুশীতে পুলকিত হত। ছেলের মুখে পিঠে, হাতে পায়ে সে হাত বুলিয়ে ছেলের সৌন্দর্য্য দেখার চেষ্টা করত।  গায়ের রং বাপ মাকে ছাড়িয়ে যায়তাই নিয়ে ওপাড়ার মেজদাদির মত লোকেরা এই চাচীর নামে সারা গাঁয়ে কুৎসা রটাতে ছাড়ে না। ঘটনার কোন সত্যতা ছিলো না। তাই একসময় আর কেউ ওসব কথায় গা করতো না। সাত বছর বয়সে তাদের ফুটফুটে ছেলেটি তিন দিনের কালাজ্বরে মারা যায়।

‘ চাচী কই ?
‘ ধান ভানতি গেছে শাবুদ্দি মোড়লের বাড়ি।  গরীব মানুষের বেটি, গরীব  মানুষের বউ সারা জীবন শুধু খাঁটে গেলো। সুখ পাইলো না একটু।

‘ চাচা , তোমার কি মন খারাপ ?
‘ নারে বাপ। মন খারাপ না।  নিত্যি অভাবের সংসারে মন খারাপকে পাত্তা দিলি কি জীবনের এতডা পথ পাড়ি দিয়ে আসতি পাত্তাম। বাজান বাঁইচে থাকতি আমারে নিয়ে খুব চিন্তা করত। বেশী জমিজমা নেই। কি হবে আমার? এই ভাবনায় তার রাইতে নিদ হইতো না। তার আওলাদকে ভিক্ষে করে খাতি হবে সারাজীবন। না। ভিক্ষে আমি করিনি। কতদিন শুধু নুন দিয়ে হাত খাইছি, কতক দিন তাও জুটতো না। খিদের জ্বালা বড় জ্বালারে বাপ। হিতাহিত জ্ঞান থাকে না মানুষের্। তবু কখনো হাত পাতিনি কারো কাছে। যাকাত ফেতরা কেউ বাড়ি এসে দিয়ে গেলে নেই। এই টুকু না নিয়ে তো পারিনে। দুটো মানুষের পরনের কাপড় তো কেনা লাগে ।  জীবন কাটায়ে দিলাম ঘর আর বারান্দায়। এই জীবন যে কি কঠিন তা যে পার করে সেই শুধু জানে।

মাইনষে কয় কানা খুড়া বুবা মানুষগো আল্লাহ বেশী ভালোবাসে। আমার তো মনে হয় না আল্লাহ আমাগে ভালোবাসে। আমারে যদি আল্লাহ ভালোবাইসতো তাহলে কি কানা করে পয়দা করত । জাহান্নামের জীবন কি দুনিয়ার অপূর্ন জীবন থেকে কঠিন!  বুঝলে শুভ্র মিয়া। জেবন অনেকক কঠিন। জেবনে অনেক বালা মসিবত আসপে। কাছের মানুষ পর হয়ে যাবেতখন কিন্তু ঘাবড়ালি চলবে না।



এই সময়  চাচী ফিরে এলো। আঁচলে তার চাউল বাঁধা। মোজাম কানা ব্যকুল হয়ে বললো , " চাইল আনিছো। শিজ্ঞির ভাত চড়াই দাও। দুই দিনের খিদে চাগান দিয়ে উঠিছে চালের গন্ধে।  " চাচী আমার সাথে দুটো কথা বলে ঘরের বারান্দায় পাতা চুলায় আগুন ধরাতে বসলো। পাতার আগুনের ধোঁয়ায় সারা বারান্দা অন্ধকার হয়ে গেলো। আমি উঠে পড়লাম। দোকানের দিকে জোরে পা চালালাম।


দুই দিন। এই দুটি মানুষ দুই দিন না খেয়ে আছে। কারো কাছে হাত পাতে নি পেটের জন্য। অভুক্ত শরীরে আধা বেলা ধান ভেঙে সে কেজি পাঁচেক চাল নিয়ে ফিরেছে ঘরে।  শিমের মাঁচা থেকে কয়েকটা শিম ছিড়ে ভাতের হাড়িতে  দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিয়েছে  চাচী। চুলার আগুনের আভা চাচীর মুখে। সে মুখে কোন রাগ নেই, অভিমান নেই, কষ্ট নেই।   নিজের অজান্তে দুফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়লো।

লাইফ উইদাউট লাভ - পর্বঃ ২২

৯ ফাল্গুন, ২১ শে ফেব্রুয়ারী। মহা ভাষা শহীদ দিবস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ দিবস বাঙালীর আত্মত্যাগের , এই দিবস বাঙালীর আত্মত্যাগের্। এই একটি দিনে আমরা হিন্দু , মুসলমান, খ্রিস্টান হয়ে নয়, বাঙালী হয়ে পৃথিবীর বুকে ইতিহাস তুলে ধরিখালি পায়ে বসন্তে ফোঁটা সজীব পুষ্পমাল্য হাতে, প্রভাতফেরীর সারিতে  প্রভাত সংগীতে সব বাঙালী ছূটে যাই শহীদ মিনারে। আমাদের সেই মিছিলে যোগ দেয় পৃথিবীর নানান ভাষাভাষী মানুষ।

একুশে ফেব্রুয়ারীর প্রভাত ফেরীর অনুষ্ঠান ছিলো স্কুলে। সকালে চলে গেলাম এক গোছা ফুল নিয়েপথে দেখা হলো ওপাড়ার মেজ দাদির সাথে। পাড়া সম্পর্কীয় এই দাদিকে আমি বরাবরিই অপছন্দ করি। কথা লাগানো , কুটনামি ইত্যাদিতে তার জুড়ি মেলা ভার্। সকালে দুটো খেয়ে একটা পান মুখে পুরে সে পাড়া বেড়াতে বের হয়। ফেরে দুপুরের আগে। বলতে গেলে সবার হাঁড়ির খবর তার জানা। তাই সেভাবে কেউ ঘাঁটায় না । আমাকে দেখে বলে, কই যাও ছোড খুকা। শহীদ পূজো কত্তি ? মোচলমানের ছাবাল হয়ে তুমরা সব ক্যান যে হিন্দু গো লাহান পুজো করো। ক্লাসের বইতে এইসব ল্যাহা থাহেনি?

আমি কথা বাড়াই না। গতবছর আমি এই বিশিষ্ট তর্ক বাদীকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছি। তার ব্যাপারটা এরকম, আমি ঘুমিয়ে আছি, কেমন পারো আমাকে জাগাও দেখি।

রাস্তার পাশে পলাশ গাছ গুলোয় যেন আজ আগুন লেগেছে। সকালের রবি কিরণে লাল বর্নের ফুলগুলো জ্বলজ্বল করছে। স্কুলে এসে দেখি বিলাস, সৌমিত্র, সাজ্জাদ, আরমান, কিশোর, অনিক, রুদ্র , সুস্মিতা, ছোয়া , ফারজানা সবাই এসে হাজির খালি পায়ে স্কুলের পোষাকে । সবার হাতে এক গোছা ফুল। ফারজানার হাতে কয়েকটা গোলাপ। এক গোলাপের সাইজ এত বড় যে আমরা প্রায় সবাই লক্ষ্য করেছি। কিশোর গোলাপ টা হাত করার জন্য ফারজানাকে পটানোর চেষ্টা করলো। ফারজানা কিছুতেই রাজি হয় না। শহীদদের উদ্দ্যেশ্যেই সে বাগানের সব থেকে বড় গোলাপটা আজ নিজ হাতে ছিড়েছে। ছিড়তে গিয়ে বামহাতের অনামিকা ছড়ে গেছে গোলাপ কাটায়। কিশোর মনোক্ষুন্ন হয়ে গজগজ করে। তোর  আঙুলে আজ মরিচ বাটা লাগুক। তোর গোলাপ ঝাড় উইপোকায় কাটুক। ফারজানা বদদোয়া শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে যায়। সে হাতের ফুলের গোছা ছুড়ে মারে কিশোরের মুখের  উপর্। কিশোর বড় গোলাপ টা কুড়িয়ে নিয়ে তাতে নায়ক রাজ্জাকের মত ভাব নিয়ে চুমু খায়। আমরা সবাই হেসে উঠি। ফারজানা গটগট করে চলে গেলো। সাজ্জাদ বলে, ওই কই যাস? সে উত্তর দেয় না। ছোঁয়ার সাথে ফারজানার সম্পর্ক ভালো না। তারা দুজন ছয়মাস কথা বলে তো বাকি ছয়মাস বলে না। ফারজানা ঠোঁট বাকিয়ে বলে, দ্যাখ, টাইগারের স্যারের কাছে নালিশ করতে গেছে।



কিছু পরে ঘন্টার টুংটুংটুং শোনা গেলো। অফিস ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে পিয়ন চিৎকার করে সবাইকে শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হতে বললো। স্কুলের গেট থেকে ঢুকে বাদিকে শহীদ মিনার্। শহীদ মিনারের পেছনে বড় দুটো শিমুল তুলোর গাছ। শিমুলের ফুল পাতায় শহীদ মিনার জঞ্জাল হয়ে থাকে। আজ সব সাফ সুতরো করে রাখা হয়েছে। হেডস্যার সব শিক্ষকদের নিয়ে প্রথমে পুষ্পার্ঘ অর্পন করলেন। বাংলা স্যারের তত্বাবধানে বিভিন্ন ক্লাসের মেয়েরা লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পড়ে গাইছে ফেব্রুয়ারীর থিম সং

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভূলিতে পারি...


একে একে আমরা সবাই ফুল দিলাম। কিশোর ফারজানাকে কোথা থেকে ধরে এনেছে। ফারজানার হাতে ফুলের গুচ্ছে শোভা বাড়িয়েছে সেই গোলাপ। ফুল দিয়ে বাইরে এসে দেখি গোলাপটি ফারজানা কিশোরের হাতে গুঁজে দিলো।আমারও ইচ্ছে করছে আমার জান পাখিটার হাতে একটা টকটকে লাল গোলাপ ধরিয়ে দিতে। আমার জান পাখিটা এখন কোথায় ? শাহবাগে নাকি শহীদ মিনারের প্রভাত ফেরীর মিছিলে! নাকি বন্ধের দিন বলে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। আমার খুব ইচ্ছে করছে ঢাকা যেতে।