blogger widgets
শুভ্র ভাই এর লেখালেখির জগতে স্বাগতম! Welcome!
আমাদের ব্লগে ইতিহাস -এর লেখা সকল পোস্ট।
ইতিহাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রংধনু পতাকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

রংধনু পতাকার ইতিহাস। আসলেই কি এই পতাকার কোন ইতিহাস আছে? একটি সত্যিকারে পতাকার নকশা করা যায় না, তা জনগনের আত্মা থেকে ছিঁড়ে আনতে হয়। যেটা হয়ে ওঠে গনমানুষের পতাকা। তোমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন কেন রংধনু পতাকা নিয়ে এত মাতামাতি। কেন সবাই প্রোফাইলে রংধনু পতাকা লাগাচ্ছে। তোমরা সবাই কেনর উত্তর জানতে চাও। গুগলে সার্চ দিলে সহজেই পেয়ে যেতে। তবু ইতিহাসস জানতে সবারই অনিহা। আমি কিছুদিন তোমাদের ইতিহাস জানানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তোমরা সবাই বলো এগুলো জেনে কি লাভ! আমিও ভাবি এগুলো তোমাদের জানিয়ে কি লাভ। তোমরা নগদে সব লভ্যাংশ পেতে চাও। মোঘলদের ইতিহাস জেনে কি লাভ? তবু ইতিহাসের বইয়ে কেন ওগুলো পড়ানো হয়?

১৯৭০ সালের কথা। কানসাসে বেড়ে ওঠা যুবক গিলবার্ট বেকার। আর্মির চাকরি নিয়ে স্যান ফ্রান্সিসকোতে চলে আসেন। সেনাবাহিনী থেকে সম্মানজনক অব্যহতি পাওয়ার পরে বেকার স্যান ফ্রান্সিসকোতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তার একজন শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন ছিলো। তিনি স্বপ্ন পূরণের পথে এগোতে চাইলেন। তিনি সেলাই শিখলেন। সত্তরের দশকের নজরকাড়া পোষাক সব তৈরী করতে লাগলেন।

১৯৭৪ সালে বেকারের সাথে মিল্কের পরিচয় হয়। মিল্ক বেকারকে দেখান কিভাবে কাজ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। তিন বছর পরে মিল্ক স্যান ফ্রান্সিসকোর বোর্ড অফ সুপারভাইজার নির্বাচিত হন। তিনি প্রথম প্রকাশ্য সমকামী ব্যক্তি যিনি আমেরিকার বড় একটি শহরের সরকারী উচ্চ পদে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তাও জনগণের ভোটে। কাস্ত্রো সেন্টের মেয়র থাকার সময়ে মিল্ক সমকামী যুবকদের আশার বাণী শোনানোর জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি সবসময় বলতেন, "তারা (সমকামী যুবকেরা) একমাত্র আশা খোঁজে এবং তোমাদের (জনগণের) উচিত তাদের আশা দেওয়া।'' একদা সমকামী ব্যক্তিগন নিজেদের প্রতীক হিসেবে গোলাপী ত্রিভুজ ব্যবহার করতো। মূলত হিটলারের নাৎসী বাহিনী সমকামীদের চিহ্নিত করে হত্যা করার জন্য এই গোলাপী ত্রিভুজ ব্যবহার করতো। নির্বাচিত হওয়ার পরে মিল্ক গিলবার্টকে চ্যালেঞ্জ করলেন, সমকামী সম্প্রদায়ের জন্য এমন একটি প্রতীক তৈরী করতে যা নিয়ে তারা গর্ব করতে পারে।
 


মহা উৎসাহে বেকার কাজ শুরু করলেন। বেকার জুডি গার্লান্ডের গাওয়া, ওভার দ্যা রেইনবো থেকে অনুপ্রেরণা নেন। তিনি নিজ হাতে সুতায় রঙ করলেন। ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় আট রঙা বিশাল দুইটি পতাকা সেলাই করলেন। বেকার প্রতিটি রঙের ব্যাখ্যা লিখলেন।


  • গোলাপী- সেক্স্যুয়ালিটি বা যৌনতা
  • লাল - জীবন
  • কমলা - হিলিং
  • হলুদ - সূর্য 
  • সবুজ - প্রকৃতি 
  • আসমানী - শিল্প 
  • নীল - শান্তি 
  • বেগুনী - উদ্দীপনা

এখান থেকেই মূলত শুরু। ১৯৭৮ সালে স্যান ফ্রান্সিসকোতে  ''গে ফ্রিডম ডে''র আয়োজন করা হয়। এখানে হাতে তৈরী বেকারের কিছু রংধনু পতাকা ওড়ানো হয়। পরবর্তীতে বেকার প্যারামাউন্ট ফ্লাগ কোম্পানীর সাথে মিলে অধিক পরিমানে পতাকা তৈরী শুরু করেন। প্যারামাউন্ট সাতরঙা পতাকা তৈরী শুরু করে।

১৯৭৮ সালের ২৭ নভেম্ভর সকালে মেয়র জর্জ মোসকেন এবং সুপারভাইজার হার্ভে মিল্ক সিটি হলে আততায়ীর হাতে খুন হন। স্যান ফ্রান্সিসকো্র সমকামী সম্প্রদায় এই ঘটনায় ব্যথিত হয়। গে ফ্রিডম ডে কমিটি ১৯৭৯ সালের গে ফ্রিডম ডে প্যারেডের সময়ে মার্কেট স্ট্রিটের দুই পাশের লাইট পোস্টে সাতরঙা পতাকা ওড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তারা রংগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দুইটি পতাকা তৈরী করে রাস্তার দুইপাশে টাঙালেন। তিন=তিন রঙ ব্যালান্স করতে তারা নীল রংটিকে বাদ দিলেন।

ছয় স্ট্রাইপের রংধনু পতাকা অচিরেই স্যান ফ্রান্সিসকোর অনেক বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উড়তে শুরু করলো। একই সময়ে গর্ব এবং আশার প্রতীক হিসেবে কফি মগ, টি শার্ট, বাম্পার স্টিকার ইত্যাদিতে রংধনু পতাকার নকশার ব্যবহার শুরু হলো।

আর এখন আমরা ফেসবুক প্রোফাইলে সাতরঙা আলপনা আঁকি।


 সাতরং নিজের সত্ত্বাকে প্রকাশের রঙ

আকিলিস এবং প্যাট্রোক্লস

আজ প্রাচীন বিশ্বের ভালোবাসার আরেকটি গল্প শোনাতে চাই। গ্রীকদের গল্প। আমি নিজেও এই ব্যাপারে পড়াশোনা করার আগে বিশ্বাস করতাম প্রাচীন পৃথিবীতে সমকামী ভালোবাসা শুধু গ্রীকদের মাঝে ছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে জানার পরিধি বেড়েছে। গত কয়েকদিনে রোমানদের বেশ কিছু ইতিহাস তোমাদের শুনিয়েছে। সব যে ভালোবাসার তা কিন্তু নয়। গ্রীকদের ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলোর একটা ব্যাপার হচ্ছে এরা সব গ্রীকদের বীরদের চরিত্রে দেবত্ব আরোপ করে। সকল বীরদের পিতা মাতা শেষ পর্যন্ত দেবতারা হন। আকিলিস এবং প্যাট্রোক্লসের ভালোবাসা জগৎবিখ্যাত। ট্রয় নামের চলচ্চিত্রে এই চরিত্র দুটি আছে। এই দুজনের মধ্যে কে প্রেমিক আর প্রেমিকা তা নিয়ে গ্রীকদের মাঝে অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু তারা সঠিক কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে নাই। অনেকে ধারণা করেন প্যাট্রোক্লস ছিলেন প্রেমিক কারণ তিনি বয়সে বড় এবং বিজ্ঞ ছিলেন অন্য দিকে আকিলিস ছিলেন বয়সে নবীন এবং লাস্যময় যুবক। বলা হয় বীরদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সব থেকে সুদর্শন।

আকিলিস এবং প্যাট্রোক্লস তরুন বয়সে একে অন্যের প্রেমে পড়েন। তারা একত্রে বেড়ে উঠেছেন। জ্ঞানী পন্ডিত কাইরনের কাছে অধ্যায়ন করেছেন এবং একই সাথে ট্রোজান যুদ্ধে যান। তাদের সম্পর্ক কি ভালোবাসার ছিলো নাকি যৌন সম্পর্ক ছিলো? অধিকাংশ সম্রান্ত গ্রীকদের মত তারা পায়ুকাম থেকে বিরত ছিলেন। আকিলিসের বক্তব্য অনুসারে তারা দুজনের উরুর মাঝে ভালোবাসার খেলা খেলেছিলো। আমি কি বোঝাতে চেয়েছি নিশ্চয় বুঝতে পেরছেন। গ্রীকরা বিছানায় তাদের শক্তি সম্পর্কে অবগত না হলেও তারা কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের শক্তি ঠিকই দেখতে পেয়েছে।

সুন্দরী হেলেনকে প্যারিস নিয়ে যাওয়ার পরে ট্রোজান যুদ্ধের সুত্রপাত হয়। সমগ্র গ্রীস ক্ষেপে উঠ। তারা আকিলিসের নেতৃত্ত্বে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ট্রয় নগরী দখলের জন্য নয় বছর ধরে যুদ্ধ চলে। গ্রীক সেনাপতি আগামেনন যখন সুন্দরী ব্রাইসিসকে ছিনিয়ে নেয় তার আকিলিসের কাছ থেকে তখন সে নিজেকে যুদ্ধ থেকে সরিয়ে নেই। সাহসী আকিলিস যুদ্ধ ক্ষেত্রে না গিয়ে নিজের তাবুতে বসে থাকেন। ওদিকে গ্রীসের বীরেরা ট্রোজান সেনাপতি হেক্টরের নেতৃত্ত্বে আক্রমনে একের পর এক নিঃশেষিত হতে লাগলো। আকিলিস ভ্রুক্ষেপই করলো না। কিন্তু যখন তার প্রাণের বন্ধু, তার ভালোবাসা, তার প্রেমিক মারা গেলো তখন সে যুদ্ধক্ষেত্রে ছুটে গেলো।


আগামেনন আকিলিসকে বারবার অনুরোধ করলো যুদ্ধে ফিরে আসার জন্য। এমনকি ব্রাইসিসকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রতীজ্ঞা করলো। কিন্তু আকিলিস নিশ্চুপ বসে রইলো। ট্রোজানেরা এক পর্যায়ে গ্রীক জাহাজগুলো পুড়িয়ে দিতে উদ্যত হলো। প্যাট্রক্লস আকিলিসের পোষাক পরে যুদ্ধক্ষেত্রে গেলো, মহা বিক্রমে সে ট্রোজানদের তাড়িয়ে নিয়ে গেলো। যুদ্ধের উত্তাপে প্যাট্রক্লস ফেরার কথা ভূলে গেলো। সে ট্রোজানদের ট্রয় ওয়ালের কাছাকাছি তাড়িয়ে নিয়ে গেলো। ট্রোজান প্যাট্রন অপল্লো পেছন থেকে প্যাট্রক্লসকে আঘাত করে। অতঃপর হেক্টর এক কোপে প্যাট্রক্লসকে হত্যা করে।


এই দুঃসংবাদ শুনে আকিলিস ধুলোর মাঝে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে শুরু করলো। প্যাট্রক্লসের দেহ ফিরিয়ে আনার পর আকিলিস তাকে পোড়াতে দিলো না। লাশের মাথার কাছ বসে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। স্বর্গ থেকে আকিলিসের মা দেবী থেটিস ছেলেকে সান্তনা দিতে নেমে এলেন।

আকিলিস উঠে নতুন যোদ্ধা সাজে নিজেকে সজ্জিত করে যুদ্ধক্ষেত্রে ছুটে গেলেন। গণহারে ট্রোজানদের কচুকাটা করতে লাগলেন। তিনি ট্রোজান রাজা প্রাইমের বড় সন্তান হেক্টরকে বধ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্যারিস অপোল্লোর নির্দেশ মত আকিলিসের গোঁড়ালিতে বিষাক্ত তীর মেরে তাকে হত্যা করেন। আকিলিস যাতে যুদ্ধে নিহত না হয় সেজন্য তার মা তাকে সাগরে ডুবিয়ে শুদ্ধ করেন। কথিত আছে তিনি পায়ের গোড়ালি ধরে ডুবান বলে এই অংশটি ভিজে নাই। সেজন্য শুধুমাত্র আকিলিসের গোড়ালিতে আঘাত করে তাকে মারা সম্ভব।


আকিলিস এবং প্যাট্রোক্লসের মৃতদেহ ভস্মীভূত করে তাদের ছাই একই কবরে সমাহিত করে গ্রীকেরা। তোমরা যারা চোখ দিয়ে পড়লে তারা শুধু একটা গ্রীক গল্প পড়লে। আর যারা মন দিয়ে পড়লে তারা নিশ্চয়ই দুই প্রেমিকের অমর প্রেমের গল্প পড়লে। যারা শুধু পাশাপাশি বাঁচতে চায় নাই। একজনের জন্য অন্যজন মরতেও পেরেছে। তারপরও কি গে রা ভালোবাসতে জানে না। তারা শুধু দেহসর্বস্ব প্রাণী! এই দুই বীরের জন্য, এই প্রেমিক যুগলের জন্য দুফোঁটা চোখের জল রেখো তোমার মনের কোঠায় যদি তুমি ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করতে চাও।

রোমানদের অদ্ভুত সমকামী শাস্তি!

পায়ুকামের প্রথা প্রাচীন। লিখিত সূত্র ধরে এগোলে এর মূল খূঁজে পাওয়া যায় ইব্রাহিম আলাহিওয়াসালামের যুগ পর্যন্ত। কিন্তু যেহেতু বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দেবো তাই ইব্রাহিম না বলে আব্রাহাম বলবো। বাইবেলীয় সময়ে মৃত সাগরের নিকটবর্তী এলাকায় সোদম বলে একটি জনবসতি ছিলো। তখন তো আর ডেড সি ছিলো না। এই এলাকা ধ্বংস করে দেয়ায় ডেড সি'র উৎপত্তি হয়েছে। বর্তমানে যে জর্ডান দেশ আছে ওখানে। কেন ধ্বংস করে দেয়া হলো এই এলাকা। আসুন বাইবেলের পাতা উল্টাই। জেনেসিসের ১৯ নং অধ্যায়ের ৫ থেকে ৮ নম্বর বাক্য বর্ণণা করা যাক। "গড মনোক্ষুন্ন হলেন - তিনি কিছু প্রতিবেশী শহরসহ এলাকাটি ধ্বংস করে দিতে চাইলে কিছু ভালো মানুষ যেমন তার ভাইপো লট (আরবিতে লুত (আঃ)) এবং তার পরিবারকে রক্ষা করতে আবেদন জানালেন। গড দুজন এঞ্জেল (দেবদূত বা ফিরিশতা) পাঠালেন ইনভেস্টিগেট করতে। নতুন মাল দেখে খুব শীঘ্রই পায়ুকামী ব্যক্তিদের দ্বারা তারা আক্রান্ত হলেন। ঐশ্বরিক অথিতিদের রক্ষা করার লক্ষ্যে লট তার যুবতী দুই কন্যাকে জনসন্মুখে হাজির করে করে বললেন, এদেরকে নাও, এরাও ভার্জিন!"

আপাতত বাইবেল বন্ধ করেন। একটা প্রশ্ন রাখি। হোক লুত নবী ছিলেন। কিন্তু তিনি তো একজন পিতা ছিলেন। একজন পিতা কিভাবে পারেন সমকামিতাকে বন্ধ করতে নিজের মেয়েদেরকে গণধর্ষণের মুখে ঠেলে দিতে যারা কিনা কুমারী ছিলো, যাদের সত্বীচ্ছদ পর্দা তখনো ফাঁটে নাই। যাই হোক এই সব জটিল প্রশ্নের সহজ উত্তর দেয়ার কেউ নাই। প্রশ্ন করলে পাদ্রী থেকে মৌলভী তেড়ে মারতে আসে। আসুন বাইবেল থেকে আল কোরআনে যাই। পবিত্র কোরআনের ১৪ জায়গায় সমকামিতার উল্লেখ আছে। এক জায়গায় সমকামিতার অপরাধে সোদম ও গোমরাহ নগরবাসী তথা আদ, সাদ ও লুত (আঃ) এর কওমকে ধ্বংস করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ফিরিশতা জিবরাইল (আঃ) এসে ঐ স্থানকে উলটে দিলে মৃত সাগরের জন্ম হয়। মৃত সাগরের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবনের উপস্থিতির কারণে সেখানে কোন প্রাণী জন্মে না। এজন্যি এটার নাম মৃত সাগর। অতিরিক্ত লবনের ঘনত্বের কারণে আপনি এখানে ভেসে থেকে পেপার পর্যন্ত পড়তে পারবেন। ইংরেজীতে পায়ুকামকে সোডোমি বলে যা এই সোদম নগরের নাম থেকে এসেছে।

এইবার ধর্মীয় বই থেকে চলেন ইতিহাস পড়ি। ইতিহাসে সমকামীতার উদাহরণ ভূরি ভূরি। গ্রীক রোমান যুগে এটা তো উচ্চমার্গে পৌঁছে গিয়েছিলো। মহামতি আলেক্সান্দার দ্যা গ্রেটের বয়ফ্রেন্ড ছিলো। এমনকি সেই সমাজে প্রকাশ্যে সমকামিতা প্রচলিত ছিলো। যারা আলেক্সান্ডার চলচ্চিত্রটি দেখেছো তারা নিশ্চয় একটা দৃশ্যে দেখেছো যুবক আলেক্সান্ডারের পিতা সম্রাট (নাম মনে পড়ছে না) প্রকাশ্য পার্টিতে আগত এক যুবকে চেপে ধরে মেরে দিলেন। তবে সেটা মোরগ সেক্সের মত এত সংক্ষিপ্ত ছিলো যে ঠোঁটের কোনায় হাসি আসলোই। একটা মজার আইনের কথা বলে আজকের কচকচানি শেষ করবো। আমি জানি সবাই না হলেও অনেকেই তোমরা এই দীর্গ স্ট্যাটাসের এই পর্যন্ত চলে এসেছো। গ্রীকো-রোমান যুগের শেষ ভাগে সমকামিতা তার সৌন্দর্য্য হারায়। তখন নারীকামিতাই সেক্সের মূখ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। এই সময় পেডিকো বলে একটা আইনের প্রচলন হয়। নারী পুরুষের যে কেউই এই আইনে শাস্তি পেতো। এই আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি পা* মারার সুযোগ পেতো। অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশাল সাইজের একটি র‍্যাডিশ বা মুলা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারতো। কোথায় নিয়ে দাঁড়াতে হতো সেটা আমাকে জিজ্ঞেস না করে শেরপুরের নাঁটাকে জিজ্ঞেস করো। গুগল সার্চ থেকে জানা যায় সে এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী! লুল।

রোমান সাম্রাজ্যে সমকামি অধিকার!

সমকামিতা সম্পর্কিত পোস্টগুলোতে ফেসবুকে প্রচুর মন্তব্য পাচ্ছি। 
মন্তব্য সে পক্ষে হোক অথবা বিপক্ষে যুক্তিপূর্ণ এবং গঠনমূলক হলে ভালো লাগে। অনেকে দাবী করছেন যে আমি আমার লেখায় সমকামিতার প্রচার করছি। আমার কিন্তু সেরকম মনে হয় না। আমি সমকামিতার পক্ষে বা বিপক্ষে কোন মত দেই নাই। জাস্ট বাইবেল এবং আল কোরআনের রেফারেন্স ধরে কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আমি শুধু সমকামিদের একটি মেসেজ দিতে চাই যে সমকামিতা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সমকামি ব্যক্তিগণ সবাই নিজেকে আইসোলেটেড ভাবে। নিজেকে বড় একা ভাবে। জনমানুষের ভীড়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত বেঁচে থাকে। অথচ তার মত যুগে যুগে হাজার বছর ধরে মানুষের মাঝে সমকামিতা ছিলো। কখনো কখনো সেটা হয়ে গেছে সমপ্রেমিতা।

আমি তাই পুরাতন পূঁথি ঘেঁটে আপনাদের জানাতে চাই ইতিহাস। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন এগুলো জেনে কি হবে? জেনে আসলে কি হয়! আমি নিজেই জানিনা। চাঁদে মানুষ গেছে, মঙ্গলে রোবট। আমরা জেনেছি। জেনে কি হয়েছে। তবে আমি জানতে ভালোবাসি। আমি পড়তে ভালোবাসি। এটাতেই আমার আনন্দ। আজ আমি আপনাদের প্রাচীন রোম সমাজে সমকামিতা সম্পর্কে হালকা কিছু তথ্য জানাবো। প্রাচীন রোম বলতে অনেকের মাথায় দুই চারশো বছর আগের কথা আসে। এটা কিন্তু তারও আগে। তখন ইসলাম কি খ্রিস্টান ধর্মের আগমন ঘটেনি পৃথিবীতে। ইহুদী ধর্মের রাজত্ব চলছে। গ্রীক-রোমানরা অবশ্য মূর্তিপূজারী। অনেকক্ষেত্রে ভারতীয় হিন্দুধর্মীয় কালচারের পূর্বপুরুষ বলা যেতে পারে। তখন গ্রীক সামাজ্র ও রোমান সাম্রাজ্যের হাত ধরে নগর সভ্যতা বিকশিত হচ্ছে। যিশু খ্রিস্ট্রের জন্মের এক শত বছর আগে রোমান সম্রাট হার্ডিয়ান প্রকাশ্যে নিজের সমকামী সত্তাকে প্রকাশ করেন। নিজের বয়ফ্রেন্ডের স্মৃতির জন্য মিশরের একটি গ্রামকে নগরে পরিনত করে নাম রাখেন এন্টিনোপোলিস। নির্মান করেন মন্দির। খ্রিস্টান ধর্ম এবং পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটে এই অঞ্চলগুলোতে। মন্দির গুলো মিশে যায় ধূলোয়। কিন্তু এন্টিনোপোলিস এখনো টিকে আছে। এখনো বর্ণনা করছে এক অমর প্রেমের গল্প।

রোমান সাম্রাজ্রে রোমান পুরুষেরা স্বাধীনভাবে অন্য পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতো। এক্ষেত্রে তাদের কোন ধর্মীয় বা সামাজিক বাঁধা ছিলো না। তবে তাদেরকে পেনেট্রেটিভ বা টপ রোল প্লে করতে হতো। বটম রোল প্লে করলে তাদের পুরুষত্ব কিংবা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো। অধিকাংশ সমলিঙ্গিক যৌনক্রিয়া গুলো তারা বন্দী, দাস অথবা পুরুষ পতিতাদের সংগে করতো। অবশ্য পতিতারা স্বাধীন নাগরিক ছিলো না। তারা দাস ছিলেন। রোমান পুরুষেরা ১২ থেকে ২০ বছরের কিশোর ছেলেদের যৌন সঙ্গী হিসেবে পছন্দ করতো। অনেকক্ষেত্রে পতিতাদের বয়স বেশী হতো। এটা তাদের দেহ সৌকর্য্যের উপর নির্ভর করতো। প্রাচীন রোমান নারীদের মাঝে সমকামিতা সম্পর্কিত সেরকম কোন তথ্য পাওয়া যায় না।

রোমান সাম্রাজ্যে মুক্তভাবে জন্ম নেয়া একজন পুরুষ সামাজিক ভাবেই একজন নারী বা পুরুষের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করতে পারতো। নারী এবং কিশোর ছেলে উভয়ই ছিলো কামনার বস্তু। কিন্তু বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে একজন পুরুষ শুধুমাত্র দাস অথবা পতিতাদের সাথে যৌনকর্ম সম্পাদন করতে পারতো। অন্য কোন রোমান নাগরিকের স্ত্রী, তার বিবাহযোগ্যা কন্যা, অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্র, অথবা তার সাথে যৌনকর্ম করা রোমান নীতি অনুসারে অমানবিক কাজ হিসেবে গণ্য হতো। তবে মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে তার দাস দাসীদের সঙ্গে যৌন ক্রিয়া বৈধ ছিলো।

আজ এই পর্যন্তই থাক। আশা করি জানতে আগ্রহীদের ভালো লাগবে। আগামীতে হিন্দুধর্মে সমকামিতার শাস্তি নিয়ে রেফারেন্সসহ একটা লেখা লিখবো। হিন্দু বন্ধুদের মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে বলছি। হিন্দু হয়ে মনুশাস্ত্রের কথা নিশ্চয় তুমি ফেলে দিতে পারবে না।


চিত্রঃ মৃত্তিকা নির্মিত তৈলবাতিদানে খোদাই করা দুজন মল্লযোদ্ধার যুদ্ধ অথবা পুরুষের যৌনক্রিয়া দৃশ্য। আমি মনে করি এই পটে শিল্পীর সুতীব্র বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ ঘটেছে।