blogger widgets
শুভ্র ভাই এর লেখালেখির জগতে স্বাগতম! Welcome!
আমাদের ব্লগে সমকামী ব্যক্তিত্ব -এর লেখা সকল পোস্ট।
সমকামী ব্যক্তিত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

নিরো

দেশে দেশে সমলিঙ্গিক বা সমকামী বিবাহের স্বীকৃতি দেয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। অনেকের ধারণা গে ম্যারেজ বা সমকামী বিয়ে একটি আধুনিক প্রথা বা ধারণা। আসলে কিন্তু তা নয়। সুদূর অতীতে সমকামী বিবাহের নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রাচীন সমাজে সমকামী বিয়ের কথা বলতে গেলে নিরোর কথা বলতে হয়। নিরো একজন নয় দুই জন পুরুষকে বিয়ে করেছেন। বাঙালির কাছে রোমান সম্রাট নিরো বাঁশি বাজানোর জন্য বিখ্যাত। কথিত আছে রোম নগরী যখন পুড়ছিলো তখন নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। সম্রাট নিরো সমকামিতাকে নোংড়ামির শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়েছিলেন।


রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের চতুর্থ স্ত্রী আগ্রিপ্পিনার ছেলে হচ্ছে নিরো। ক্লডিয়াসের প্রথম সন্তান ১৪ বছর বয়সী রাজপুত্র ব্রিট্টানিকাসকে আগ্রিপ্পিনা বিষপ্রয়োগে হত্যা করে নিরো সিংহাসন লাভের পথ পরিষ্কার করেন। অথচ ক্ষমতা লাভের পর নিজ মাকে হত্যার প্রচেষ্টা করে নিরো। প্রথম বার বিষপ্রয়োগে হত্যা ব্যর্থ হয়। এর পর ঘরের ছাদ ভেঙে চাপা দিয়ে, জাহাজ ডুবিয়ে মারার প্রচেষ্টা ব্যার্থ হলে নিজের সৈন্য পাঠিয়ে আগ্রিপ্পিনাকে হত্যা করে। নিরো দুজন মেয়েকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর নাম ক্লডিয়া অক্টোভিয়া, সম্রাট ক্লডিয়াসের মেয়ে। ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত রাখতে নিরো ক্লডিয়াকে বিয়ে করে। গরম বাথ টাবে ক্লডিয়ার মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়। এর পিছনে নিরোর অবদান অনস্বীকার্য। এরপর নিরো পপায়া সাবিনাকে বিয়ে করেন। নিরো গর্ভাবস্থায় সাবিনাকে লাথি মারায় তার মৃত্যু হয়। নিরো বন্দীদের বাঘ সিংহের খাবার হিসেবে ছেড়ে দিতো। অনেকসময় বন্দীকে প্রাণীর চামড়া পরিয়ে কলোসিয়ামে কুকুর ও অন্যান্য বন্য জানোয়ারের হাতে ছেড়ে দিতো ছিড়ে খাবার জন্য। কিছু লোককে ক্রুশে ঝুলিয়ে মারে। রাজ প্রসাদের পার্টিতে আলো জ্বালাতে কিছু লোকতে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো। এই ছিল নিরো। সম্রাট নিরো। টাইর‍্যান্ট বা স্বৈরশাসকের নিকৃষ্ট উদাহরণ। নিরো নিজের জন্য সুবিশাল প্রাসাদ নির্মানের নিমিত্তে কাউকে অবহিত না করে রোমের একটা অংশ পুড়িয়ে ফাঁকা করে ফেলে।


সাবিনার মৃত্যুর পর নিরো স্প্রাউস নামের এক সুদর্শন দাস বালককে বিয়ে করেন। রাজকীয় ভাবে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়েতে স্প্রাউসকে কনের সাজে সাজানো হয়। নিরো পরেন দিয়ে পোষাক। স্প্রাউসকে মেয়েদের পোষাক পরতে হতো এবং তার সভাসদগণ তাকে সম্রাজ্ঞী হিসেবে অভিবাদন জানাতো। নিরো স্প্রাউসের জেনিটাল বা শুক্রাশয় কেটে ফেলেন। এরপরে নিরো পিথাগোরাস নামের এক যুবককে বিয়ে করেন। আমাদের ছেলেবেলায় পড়া পিথাগোরারের উপপাদ্যের পিথাগোরাস ইনি নন। এই বিয়েতে কনের পোষাক পরেন নিরো। নিরোর নিষ্ঠুরতায় তার সৈন্য বাহিনী বিদ্রোহ শুরু করলে সে পালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নিরো আত্মহত্যা করে। স্প্রাউস বা পিথাগোরাস সম্পর্কে খুব বেশী তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এক স্বৈরশাসকের সাথে বিয়ে হওয়ায় তাদের নাম হাজার বছর ধরে বেঁচে আছে।

আকিলিস এবং প্যাট্রোক্লস

আজ প্রাচীন বিশ্বের ভালোবাসার আরেকটি গল্প শোনাতে চাই। গ্রীকদের গল্প। আমি নিজেও এই ব্যাপারে পড়াশোনা করার আগে বিশ্বাস করতাম প্রাচীন পৃথিবীতে সমকামী ভালোবাসা শুধু গ্রীকদের মাঝে ছিলো। কিন্তু আস্তে আস্তে জানার পরিধি বেড়েছে। গত কয়েকদিনে রোমানদের বেশ কিছু ইতিহাস তোমাদের শুনিয়েছে। সব যে ভালোবাসার তা কিন্তু নয়। গ্রীকদের ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলোর একটা ব্যাপার হচ্ছে এরা সব গ্রীকদের বীরদের চরিত্রে দেবত্ব আরোপ করে। সকল বীরদের পিতা মাতা শেষ পর্যন্ত দেবতারা হন। আকিলিস এবং প্যাট্রোক্লসের ভালোবাসা জগৎবিখ্যাত। ট্রয় নামের চলচ্চিত্রে এই চরিত্র দুটি আছে। এই দুজনের মধ্যে কে প্রেমিক আর প্রেমিকা তা নিয়ে গ্রীকদের মাঝে অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু তারা সঠিক কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে নাই। অনেকে ধারণা করেন প্যাট্রোক্লস ছিলেন প্রেমিক কারণ তিনি বয়সে বড় এবং বিজ্ঞ ছিলেন অন্য দিকে আকিলিস ছিলেন বয়সে নবীন এবং লাস্যময় যুবক। বলা হয় বীরদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সব থেকে সুদর্শন।

আকিলিস এবং প্যাট্রোক্লস তরুন বয়সে একে অন্যের প্রেমে পড়েন। তারা একত্রে বেড়ে উঠেছেন। জ্ঞানী পন্ডিত কাইরনের কাছে অধ্যায়ন করেছেন এবং একই সাথে ট্রোজান যুদ্ধে যান। তাদের সম্পর্ক কি ভালোবাসার ছিলো নাকি যৌন সম্পর্ক ছিলো? অধিকাংশ সম্রান্ত গ্রীকদের মত তারা পায়ুকাম থেকে বিরত ছিলেন। আকিলিসের বক্তব্য অনুসারে তারা দুজনের উরুর মাঝে ভালোবাসার খেলা খেলেছিলো। আমি কি বোঝাতে চেয়েছি নিশ্চয় বুঝতে পেরছেন। গ্রীকরা বিছানায় তাদের শক্তি সম্পর্কে অবগত না হলেও তারা কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের শক্তি ঠিকই দেখতে পেয়েছে।

সুন্দরী হেলেনকে প্যারিস নিয়ে যাওয়ার পরে ট্রোজান যুদ্ধের সুত্রপাত হয়। সমগ্র গ্রীস ক্ষেপে উঠ। তারা আকিলিসের নেতৃত্ত্বে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ট্রয় নগরী দখলের জন্য নয় বছর ধরে যুদ্ধ চলে। গ্রীক সেনাপতি আগামেনন যখন সুন্দরী ব্রাইসিসকে ছিনিয়ে নেয় তার আকিলিসের কাছ থেকে তখন সে নিজেকে যুদ্ধ থেকে সরিয়ে নেই। সাহসী আকিলিস যুদ্ধ ক্ষেত্রে না গিয়ে নিজের তাবুতে বসে থাকেন। ওদিকে গ্রীসের বীরেরা ট্রোজান সেনাপতি হেক্টরের নেতৃত্ত্বে আক্রমনে একের পর এক নিঃশেষিত হতে লাগলো। আকিলিস ভ্রুক্ষেপই করলো না। কিন্তু যখন তার প্রাণের বন্ধু, তার ভালোবাসা, তার প্রেমিক মারা গেলো তখন সে যুদ্ধক্ষেত্রে ছুটে গেলো।


আগামেনন আকিলিসকে বারবার অনুরোধ করলো যুদ্ধে ফিরে আসার জন্য। এমনকি ব্রাইসিসকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রতীজ্ঞা করলো। কিন্তু আকিলিস নিশ্চুপ বসে রইলো। ট্রোজানেরা এক পর্যায়ে গ্রীক জাহাজগুলো পুড়িয়ে দিতে উদ্যত হলো। প্যাট্রক্লস আকিলিসের পোষাক পরে যুদ্ধক্ষেত্রে গেলো, মহা বিক্রমে সে ট্রোজানদের তাড়িয়ে নিয়ে গেলো। যুদ্ধের উত্তাপে প্যাট্রক্লস ফেরার কথা ভূলে গেলো। সে ট্রোজানদের ট্রয় ওয়ালের কাছাকাছি তাড়িয়ে নিয়ে গেলো। ট্রোজান প্যাট্রন অপল্লো পেছন থেকে প্যাট্রক্লসকে আঘাত করে। অতঃপর হেক্টর এক কোপে প্যাট্রক্লসকে হত্যা করে।


এই দুঃসংবাদ শুনে আকিলিস ধুলোর মাঝে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে শুরু করলো। প্যাট্রক্লসের দেহ ফিরিয়ে আনার পর আকিলিস তাকে পোড়াতে দিলো না। লাশের মাথার কাছ বসে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। স্বর্গ থেকে আকিলিসের মা দেবী থেটিস ছেলেকে সান্তনা দিতে নেমে এলেন।

আকিলিস উঠে নতুন যোদ্ধা সাজে নিজেকে সজ্জিত করে যুদ্ধক্ষেত্রে ছুটে গেলেন। গণহারে ট্রোজানদের কচুকাটা করতে লাগলেন। তিনি ট্রোজান রাজা প্রাইমের বড় সন্তান হেক্টরকে বধ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্যারিস অপোল্লোর নির্দেশ মত আকিলিসের গোঁড়ালিতে বিষাক্ত তীর মেরে তাকে হত্যা করেন। আকিলিস যাতে যুদ্ধে নিহত না হয় সেজন্য তার মা তাকে সাগরে ডুবিয়ে শুদ্ধ করেন। কথিত আছে তিনি পায়ের গোড়ালি ধরে ডুবান বলে এই অংশটি ভিজে নাই। সেজন্য শুধুমাত্র আকিলিসের গোড়ালিতে আঘাত করে তাকে মারা সম্ভব।


আকিলিস এবং প্যাট্রোক্লসের মৃতদেহ ভস্মীভূত করে তাদের ছাই একই কবরে সমাহিত করে গ্রীকেরা। তোমরা যারা চোখ দিয়ে পড়লে তারা শুধু একটা গ্রীক গল্প পড়লে। আর যারা মন দিয়ে পড়লে তারা নিশ্চয়ই দুই প্রেমিকের অমর প্রেমের গল্প পড়লে। যারা শুধু পাশাপাশি বাঁচতে চায় নাই। একজনের জন্য অন্যজন মরতেও পেরেছে। তারপরও কি গে রা ভালোবাসতে জানে না। তারা শুধু দেহসর্বস্ব প্রাণী! এই দুই বীরের জন্য, এই প্রেমিক যুগলের জন্য দুফোঁটা চোখের জল রেখো তোমার মনের কোঠায় যদি তুমি ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করতে চাও।

ব্রুনো ভোগেল

ব্রুনো ভোগেল একজন সমকামি সাহিত্যিক। ১৮৯৮ সালে জার্মানীর লিপজিগ শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯১৬ সালে মাত্র সতেরও বছর বয়সে তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। ১৯২২ সালে একটি সমকামী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, জেমেইন্সচার্ফ উইর যার অর্থ আমরাই সম্প্রদায়। সমকামী হওয়ার কারণে তার পিতামাতা তাকে ঘাড় ধরে রাস্তায় বের করে দেন। এরপর তিনি বার্লিন চলে আসেন। বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন তিনি। আমার জন্মের এক বছর পরে এই সংগ্রামী মানুষটি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে যান। আমরা সমকামীর কিছু করতে চাই আর আমাদের থেকে অতি বিরুপ পরিবেশ জন্মেও এই মানুষগুলো কিছু করে দেখিয়ে গেছে। হাল ছেড়ো না বন্ধু। জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করো।

ইফতি নাসিম

ফয়সালাবাদ, পাকিস্তান। ১৯৪৬ সাল। উপমহাদেশ জুড়েই তখন বিভাজনের গুঞ্জন। এমনি এক সময়ে বৃহৎ এক পরিবারে জন্ম হয় একটি ছেলের। ছেলেটির নাম রাখা হয় ইফতি নাসিম। ছেলেটি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। এক সময় সে আবিষ্কার করে সে অন্য দশজনের মত নয়।অন্যদের মত সে মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে না। সে নিজেকে বড় অসহায় এবং একাকি বোধ করতে থাকে। পাকিস্তানে সমকামী পুরুষের প্রকাশ্যে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। ইফতি লাইফ ম্যাগাজিনে একবার একটা আর্টিকেল পড়েছিলো। আমেরিকা হচ্ছে সেই জায়গা যেখানে গে রা মুক্তভাবে বেঁচে থাকতে পারে। মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের মত করে বাঁচার জন্য ইফতি পাকিস্তান ত্যাগ করে। পৌঁছে যায় আটলান্টিকের ওপারের দেশ আমেরিকায়। সেখানে সে দক্ষিণ এশীয় সমকামী যুবকদের সহায়তা করার জন্য সাংগাত নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি নারম্যান নামে একটি কবিতার সংকলন প্রকাশ করেন। নারম্যান হচ্ছে উর্দু ভাষায় সমকামী থিমের উপর প্রথম রচিত কবিতার বই। বইটি প্রকাশের পরে পাকিস্তান জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নারম্যানকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

নারম্যান ফারসি শব্দ। এর অর্থ হার্মাফোডাইট, অর্ধ নারী- অর্ধ নর। ব্যাপক বাঁধা সত্বেও পাকিস্তানে নতুন ধারার এক কবিতা লেখার চল শুরু হয় যাকে বলা হয় নারমানি যেখানে নবপ্রজন্মের কবিরা অকপটে পুরুষ প্রেমের কথা স্বীকার করার সাহস রেখেছেন।


এলান টিউরিং: এক সমকামী প্রেমিক এবং বিজ্ঞানী

এল্যান টিউরিং, এক ব্রিটিশ বালক। ক্লাসে কোন বন্ধু নেই। সদা একাকী। অন্যেরা সব সময় তাকে নিয়ে উপহাস করে, বিদ্রুপ করে, আক্রমন করে। এলান বিদ্ধস্ত হয়। এই সময় তার পাশে এসে দাঁড়ায় সহপাঠী ক্রিস্টোফার। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরী হয়। ক্রিস্টোফারের কাছ থেকে এলান ক্রিপ্টোগ্রাফী সম্পর্কে ধারণা পায়। আগ্রহ জন্মে। এ এমন এক কোডিং ভাষা যা কেউই বোঝে না। এলান ক্রিস্টোফারের প্রতি দুর্বলতা বোধ করে। কিন্তু তাকে বলা হয় না ভালোবাসি। এক গ্রীষ্মের ছুটিতে ক্রিস্টোফার বাড়ি যায়। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এল্যান। সবাই ফিরে আসে। ক্রিস্টোফার আসে না। খবর আসে টিউবারকুলোসিসে ক্রিস্টোফার মারা গেছ।

অমিশুক এল্যান পড়াশোনা শেষ করে ক্যাম্বিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্রিপ্টোগ্রাফি নিয়ে সরকারী ভাবে কাজ করার নির্দেশ পায়। তাদের কাজ ছিলো এমন একটি মেশিন নির্মান করা যা দিয়ে জার্মান বাহিনীর পাঠানো ক্রিপ্টেড মেসেজ কে ডিক্রিপ্টেড করা যায়। সহযোগীদের সাথে নিয়ে দিন রাত কাজ করে এল্যান। অনেক প্রতিকূলতা সত্বেও সে তার যন্ত্র ক্রিস্টোফার মেশিন তৈরী করতে সক্ষম হয়। হ্যাঁ এই নামই এল্যান রেখেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে এই মেশিন আবিষ্কারের ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দুই তিন বছর আগেই শেষ হয়ে যায়। ১৪ মিলিয়ন মানে ১৪০ লক্ষ মানুষের জীবন বেঁচে যায়। বিজ্ঞানীরা এই মেশিনকে বলেন টিউরিং মেশিন। এই যন্ত্রের উপর গবেষণা চলতে থাকে। এরই পথ ধরে এক পর্যায়ে চমৎকার এক যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়। যাকে আমরা বলি কম্পিউটার। 

এল্যানের সমকামী চরিত্রের কথা প্রকাশিত হয়ে যায়। আদালত তাকে হরমোন চিকিৎসা নিতে বাধ্য করে। কারণ সেই সময় ব্রিটেনে সমকামিতা নিষিদ্ধ ছিলো। হরমোন চিকিৎসা শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় এল্যান আত্মহত্যা করে। এল্যানের ধারণা ছিলো সে চিকিৎসা নিলে ক্রিস্টোফারের স্মৃতি মুছে যাবে। যে মানুষটির জন্য ১৪০ লক্ষ লোকের জীবন বাঁচলো সেই মানুষটিকেই মহান সভ্য দেশ বাঁচতে দিলো না। কি অপরাধ ছিলো? পঞ্চাশ বছরেরও বেশী সময় পরে ব্রিটেন এল্যান টিউরিংয়ের কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে। অথচ এটা তার জীবৎকালেই বেশী দরকার ছিলো।